1. admin@notunkurisylhet.com : notun :
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাহুবলে করাঙ্গী নদীর বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত।। পানিবন্দি বাসিন্দারা বাহুবলে বিজয়ী হবার পরই কৃতজ্ঞতা জানাতে লোকালয়ে ঘুরছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বাহুবলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ তীর বৃদ্ধ গুরুত্বর অবস্থায় দু’জনকে সিলেট প্রেরণ বাহুবলে ফ্রিপ প্রকল্পের কৃষক গ্রুপের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের মৃত্যু হবিগঞ্জে ছাড়তে হচ্ছে না ৩ উপজেলা চেয়ারম্যান এর চেয়ার বাহুবলে জামানত হারিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান খলিলসহ ৯ প্রার্থী বাহুবলে জাল ভোট দেওয়ায় একজনের ১ বছরের কারাদণ্ড, আটক ২ দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি পুলিশ সুপারের হুশিয়ারী বানিয়াচংয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩! আহত শতাধিক

মসজিদ কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ভুগছেন পূর্বজয়পুর গ্রামের জনসাধারণ

নাজমুল ইসলাম হৃদয়
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৪৩ বার পঠিত

নাজমুল ইসলাম হৃদয়ঃ মসজিদ আল্লাহর ঘর। আমরা দৈনিক পাঁচবার আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদে হাজির হই। আমাদের দেশে মসজিদগুলো পরিচালনার জন্য প্রতিটি মসজিদেরই একটি সুনির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে।

 

একজন অমুসলিম যেমন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য হতে পারে না তেমনি বড় ধরনের ইসলামবিচ্যুত কাজে জড়িত এমন কোনো ব্যক্তিও মসজিদ কমিটির সদস্য হতে পারেন না।

 

দুই/একটা ব্যতিক্রম বাদ দিলে প্রতিটা মসজিদেই আছে মসজিদ-পরিচালনার জন্য আলাদা কমিটি।

 

অঞ্চলভেদে এসব কমিটির কাঠামো ও পদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকলেও ইমাম-মুয়াজ্জিন তথা মসজিদের স্টাফের ওপর তাদের প্রভাব ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ প্রায় সবখানেই এক ও অভিন্ন।

 

তেমনি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পূর্বজয়পুর এলাকায় হযরত শাহজালাল জামে মসজিদে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুদখোর, যে কিংবা তার পছন্দের লোকই কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকে।

 

এই মসজিদে  এমনও আছে, সপ্তাহ পেরিয়ে মাস যায়, মসজিদ কমিটির সভাপতি বা সেক্রেটারিকে এর ভেতরে একবারও নামাজ পড়তে দেখা যায় না।

 

কমিটির প্রভাব ও আধিপত্যের কারণে  মসজিদে সম্মানিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদেরকে কমিটির মর্জি মাফিক চলতে হয়। বরং চলতে বাধ্য করা হয়। জুমার বয়ানে স্বাধীনভাবে আলোচনা করতে পারেন না  মসজিদের খতিব। কমিটির মর্জির দিকে খেয়াল রেখে মেপে মেপে কথা বলতে হয় তাঁদেরকে।

 

কমিটির মর্জির বাইরে ইসলামের মৌলিক নির্দেশনার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে অনেক ইমামকেই হেনস্থার শিকার হতে হয়। কিন্তু নানা কারণে এইসব খবর গণমাধ্যমে আসে না।

 

এই মসজিদ  কমিটির একচ্ছত্র আধিপত্য থাকার কারণে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের চাকরিরও কোনো ভরসা নেই। কমিটির মর্জির খেলাপ চললে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই হারাতে হয় চাকরি। অকস্মাৎ চাকরি হারালে বড় একটা টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে যান ধর্মীয় এসব পেশাজীবী। স্ত্রী-সন্তান-সংসারের ভরণপোষণ দিতে গিয়ে তখন বড় এক সংকটের মুখোমুখি হন তারা।

 

এই মসজিদ কমিটিতে প্রভাবশালী সুদখোর লোকের অন্তর্ভুক্তির কারণে ইমামকে নিষেধ করা হয় তিনি যেন জুমার আলোচনায় সুদ বিষয়ে কোনো কথা না বলেন। কিন্তু ওই মাওলানা ধর্মীয় দায়বোধ থেকে কমিটির নিষেধ সত্ত্বেও এক জুমায় সুদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আর এতেই খেপে যায় মসজিদ-কমিটি। মাসের মাঝামাঝি সময় ছিল, মাসটা পূর্ণ করারও কোনো সুযোগ দেওয়া হয়না ওই দিনই তাঁকে অপমানিত করে বিদায় করে দেয় মসজিদ থেকে।

 

মসজিদ কমিটির এই আধিপত্য কেবল যে ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেলায়ই, এমন নয়, সাধারণ মুসল্লিদেরকেও কমিটির পাওয়ারে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হয়। নানাভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়।

 

সচেতন মহল মনে করছেন, মসজিদের কমিটি দখল করে আছেন বেনামাজি, সমাজের অসৎ চাঁদাবাজ, কালোবাজারি, দুর্নীতিবাজ, সুদখোর, ঘুষখোর মানুষরা। লজ্জার বিষয় হলেও সত্য যে, এসব অসৎ অযোগ্য লোকেরাই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে নিয়মিত দুর্ব্যবহার করেন এমনকি তাদের ভুল-ত্রুটি ধরার জন্য সব সময় উদগ্রীব হয়ে থাকেন।

 

কমিটির এই আধিপত্যে লাগাম টানতে হলে প্রতিটা কমিটির ওপরে একজন মান্যবর ব্যক্তি রাখতে হবে। তিনি আলেম ও মুরব্বি আলেম হলে ভালো হয়। অর্থাৎ কমিটির যেন জবাবদিহিতার একটা জায়গা থাকে। এবং কমিটিতে কোনো সমস্যা হলে বা সমস্যার পর সমাধান-কল্পে এই মান্যবর ব্যক্তি যাতে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

 

পাশাপাশি কমিটি পুনর্গঠন বা নির্বাচনে সাধারণ মুসল্লিদের মতামতের বা বাছাইয়ের একটা অনপশনও রাখা যেতে পারে। সেটা ভোটের আদলে হোক কিংবা পরামর্শের আদলে। এতে করে মুসল্লিরাও মসজিদ কমিটির লোকজনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ থেকে কমিটির লোকজন বিরত থাকতে বাধ্য হবে।

 

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী ফিরোজ মিয়া জানান, বর্তমান মসজিদ কমিট অযোগ্য লোকদের দ্বারা মসজিদ পরিচালিত । এমনকি সূদখোর, ঘুষখোর, নিয়মিত ছালাত আদায় করে না এমন ব্যক্তি মসজিদ কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারি । এ সমস্ত নির্লজ্জ ব্যক্তিরাই আবার এই পদের জন্য বেশী লালায়িত। অথচ তারা নিজেদের পরিবারকে চৌকি দিতে পারে না। তাদের মুখে দাড়ি পর্যন্ত থাকে না।

 

অনেকে বিড়ি, সিগারেট ও মদখোরও আছে। তারা যা ইচ্ছা তাই করে। ইমামের প্রতি চোখ রাঙ্গিয়ে হক কথা বলতে দেয় না। আপোসহীন বক্তব্য পেশ করলে এবং তাদের বিরুদ্ধে গেলে তাৎক্ষণিক ইমামকে চাকরিচ্যুত করে। তারাই বড় আলেমের ভাব দেখায়। শরী‘আতে না থাকলেও তাদের মন যা চায়, তাই শরী‘আত মনে করে চালিয়ে দেয়।

 

এরাই মূর্খ পন্ডিত, যারা নিজেরা পথভ্রষ্ট এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করে। তাদের দাপটেই মসজিদ বর্তমানে প্রচলিত নোংরা রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।  এ সমস্ত সমাজ নেতারা চিরদিনই এলাহী বিধানের ঘোর বিরোধী ও বাতিলের প্রতিনিধিত্বকারী।

 

মসজিদ-কমিটির দুর্নীতিবাজ সভাপতি-সেক্রেটারির বিরুদ্ধে মানুষ ভয়ে কিছু বলে না। দ্রুত এসব সূদখোর, ঘুষখোর, নিয়মিত ছালাত আদায় করে না এমন ব্যক্তি মসজিদ কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারি বিরুদ্ধে সচেতন মহল ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

 

এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2024
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It Hosting