1. admin@notunkurisylhet.com : notun :
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাহুবলে বিজয়ী হবার পরই কৃতজ্ঞতা জানাতে লোকালয়ে ঘুরছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বাহুবলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ তীর বৃদ্ধ গুরুত্বর অবস্থায় দু’জনকে সিলেট প্রেরণ বাহুবলে ফ্রিপ প্রকল্পের কৃষক গ্রুপের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের মৃত্যু হবিগঞ্জে ছাড়তে হচ্ছে না ৩ উপজেলা চেয়ারম্যান এর চেয়ার বাহুবলে জামানত হারিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান খলিলসহ ৯ প্রার্থী বাহুবলে জাল ভোট দেওয়ায় একজনের ১ বছরের কারাদণ্ড, আটক ২ দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি পুলিশ সুপারের হুশিয়ারী বানিয়াচংয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩! আহত শতাধিক বাহুবলে ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে বোনের মুত্যু

জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ১২১ বার পঠিত

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে শনিবারও পরিবেশবাদীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ২৬) সপ্তম দিনে ভারি বৃষ্টির মধ্যে গ্লাসগোর রাস্তায় লক্ষাধিক মানুষ বিক্ষোভ করেন।

 

বৃষ্টিস্নাত দিনে বিক্ষোভে বিক্ষোভে গ্লাসগো শহর উত্তাল হয়ে ওঠে। এটি ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনসহ বিশ্বজুড়ে ২০০টি স্থানে পরিবেশবাদীরা বিক্ষোভ করেন।

জলবায়ুর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্যারিস থেকে সিডনি, নাইরোবি থেকে সিউল, ম্যানিলা-সর্বত্র বিক্ষোভ হয়েছে। খবর বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্সের।

 

বিক্ষোভকারীদের দাবি-বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে শনিবার গ্লাসগো শহরে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে দক্ষিণের দরিদ্র দেশগুলোতে অবিলম্বে সহায়তা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়?

 

প্রবল বাতাসে গ্লাসগো গ্রিনের মঞ্চ ভেঙে পড়ে। এ সময় একটি লরির ভেতরে অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে?

 

‘গ্লোবাল ডে অফ অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ মিছিলটি গ্লাসগো শহরের পশ্চিমে কেলভিংগ্রোভ পার্ক ও দক্ষিণে কুইন্স পার্ক থেকে শুরু হয়। এটি প্রায় তিন মাইল পথ ধরে চলে। মিছিল ও সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন।

 

এর আগে ক্লাইড নদীর উপর একটি সড়ক সেতু অবরোধকারীদের পুলিশ আটক করেছিল।

 

স্কটল্যাড ছাড়াও যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশে এবং কেনিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাসহ ২০০টি দেশেও বিক্ষোভ হয়। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ার ও কার্ডিফে বিক্ষোভ হয়েছে।

 

শনিবার গ্লাসগো গ্রিন সমাবেশে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নিলেও কোনো বক্তব্য দেননি। তবে আশা করা হয়েছিল তিনি মঞ্চে যাবেন ও বক্তব্য দেবেন। গ্লাসগো গ্রিনে থুনবার্গ বক্তব্য দেবেন না বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

তবে উগান্ডার পরিবেশকর্মী ভেনেসা নাকাতে সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকট রয়েছে, নেতারা খুব কমই নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস রাখেন। নাগরিকদের, আপনার এবং আমার মতো লোকদের জেগে উঠতে হবে।

 

গ্লাসগো গ্রিনের প্রতিবাদ সমাবেশে আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। গ্লাসগো শহরে ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া কনফারেন্স অব দ্য পার্টিসের ২৬তম (কপ২৬) জলবায়ু সম্মেলন ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

 

জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো-উষ্ণায়নের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবগুলো থেকে আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া। এতে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন।

 

প্রথম সপ্তাহের আলোচনার পর দেশগুলোর পক্ষ থেকে কয়লার ব্যবহার বন্ধ ও জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিদেশি অনুদান বন্ধের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

 

বিশ্বপ্রকৃতিকে রক্ষা করতে এবং চাষের আরও ভালো উপায় বের করতে শীর্ষ সম্মেলনে ৪৫টি দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

তবে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে বিজ্ঞানীরা যে বিপুল কার্বন কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে-এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয়নি।

 

এদিকে, মার্কিন জলবায়ু দূত জন কেরি বলেছেন, আগামী বছর উন্নত দেশগুলো তাদের যৌথ অঙ্গীকার হিসাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বার্ষিক জলবায়ু সহযোগিতা হিসাবে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের বিষয়ে ভালো কাজ শুরু করবে। ২০১৫ সালে হওয়া প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলো এ তহবিলের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

গ্লাসগোর জর্জ স্কয়ারে গ্রেটা থুনবার্গের অনুসারী তরুণদের সংগঠিত দল ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার’র স্কটল্যান্ড শাখা বিক্ষোভের আয়োজন করে। শীর্ষ সম্মেলনের সময়জুড়ে চলা একের পর এক বিক্ষোভের মধ্যে এদিন ছিল বৃহত্তম বিক্ষোভ।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ তাৎক্ষণিক এবং কঠোরভাবে কমানো প্রয়োজন। এটা সবার কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিত। আমরা যে পদ্ধতির কারণে এ সংকটে পড়েছি, সেই পদ্ধতি দিয়েই এর সমাধান করতে পারব না।

 

আমাদের অবিলম্বে কঠোরভাবে বার্ষিক নিঃসরণ কমানো দরকার, যা হবে বিশ্বে নজিরবিহীন। জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে এরই মধ্যে তাদের জন্মভূমিকে প্রভাবিত করছে, এ সম্পর্কে অন্য বেশ কয়েকটি দেশের কর্মীরাও তথ্য তুলে ধরেন।

 

জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ‘ব্যর্থ’ : শুক্রবার গ্লাসগোয় কয়েক লাখ বিক্ষোভকারীর সামনে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বক্তব্য দেন। জলবায়ু সম্মেলনকে ব্যর্থ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এটি পরিবেশ রক্ষার নামে লোক দেখানো উৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়।

পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বলেছেন, বিশ্বনেতারা সক্রিয়ভাবে নিয়মের মধ্যে ফাঁক তৈরি করছেন এবং তাদের দেশের নিঃসরণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে জলবায়ু সম্মেলনকে তিনি এখন পর্যন্ত ‘ব্যর্থ’ বলে উল্লেখ করেন।

 

সম্মেলনের ভেন্যুর বাইরে এক র‌্যালিতে তিনি দূষণকারীদের শক্ত হাতে দমনে কঠোর আইনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নেতারা তাদের কল্পনার জগতে বাস করে ভাবতে পারেন-প্রযুক্তি দিয়ে আচানক সব সমস্যা ফুৎকারে উড়িয়ে দেবেন। অথচ বাস্তবে পৃথিবী আক্ষরিক অর্থেই জ্বলছে। আর সামনের সারিতে থাকা মানুষ সহ্য করছে পুরো আঘাত।

 

থুনবার্গ বলেন, বিশ্বনেতারা নিশ্চিতভাবে সত্যকে ভয় পাচ্ছেন। এটা তারা এড়িয়ে যেতে পারবেন না। তারা বৈজ্ঞানিক মতামত উপেক্ষা করতে পারবেন না। সর্বোপরি তারা আমাদের, জনগণকে উপেক্ষা করতে পারবেন না।

 

এ সম্মেলনকে দুই সপ্তাহের ব্যবসায়িক উদ্যাপন বলেও তিনি সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কপ২৬ সম্মেলন যে ব্যর্থ, তা আর অজানা কিছু নয়। এটিকে এখন আর জলবায়ু সম্মেলন বলা যায় না; বরং এটি পরিবেশ রক্ষার নামে লোক দেখানো উৎসব ছাড়া কিছুই নয়।

 

সবুজ মুছে ফেলার উৎসব বলেও জলবায়ু সম্মেলনকে তিনি কটাক্ষ করেন। এ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা যতটা না কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে জোর দেন, তার চেয়েও বেশি ব্যবসায়িক স্বার্থরক্ষায় মনোযোগ দেন বলে থুনবার্গ মন্তব্য করেন। এ সম্মেলন মূলত দেশগুলোর জন্য দুই সপ্তাহের ব্যবসায়িক উদ্যাপন।

 

জলবায়ু পরিবর্তনকে মিথ্যা মনে করেন যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ এমপিদের একাংশ : দশকের পর দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

 

রাজনীতিবিদদের ওপরে চাপ প্রয়োগে পরিবেশবাদীদের চেষ্টার শেষ নেই। এত কিছুর পরেও জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘ভুয়া’ মনে করেন ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির এমপিরা! দেশটির গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক জরিপ দেখা গেছে-প্রতি ১৫ কনজারভেটিভ এমপির একজন জলবায়ু পরিবর্তন যে বাস্তব তা বিশ্বাস করেন না।

এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2024
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It Hosting